কলকাতা: ১ জুলাই গ্রেফতার হন বিধাননগর পুরসভার প্রাক্তন কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তী। গ্রেফতারের ৩৫ দিনের মাথায় তাঁর বিরুদ্ধে বৃহস্পতিবার বারাসত আদালতে জমা পড়েছে চার্জশিট। এবার অভিষেক ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতা ও কাউন্সিলর দেবরাজের বিরুদ্ধে খুলছে ‘প্যান্ডোরার বাক্স’! ধৃত প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে আবারও তোলাবাজির নতুন অভিযোগ দায়ের। বাগুইআটি থানায় অভিযোগ দায়ের করলেন লিলুয়ার ব্যবসায়ী। মোট ১ কোটি ২৫ লক্ষ টাকা তোলাবাজির জন্য অভিযোগ দায়ের করেন তিনি।
তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সির স্বামীর বিরুদ্ধে তোলাবাজি ও সিন্ডিকেট চক্র পরিচালনা সংক্রান্ত অভিযোগে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা অর্থাৎ বিএনএস-এর ১১১ ধারা সহ একাধিক ধারায় বৃহস্পতিবার চার্জশিট জমা দিয়েছে রাজ্য পুলিশ। আগেই দেবরাজের বিরুদ্ধে তোলাবাজি, মানুষকে ভয় দেখানো-সহ একাধিক অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। এই সব অভিযোগের ভিত্তিতে প্রায় ১৫০ পাতার চার্জশিটে ১১ জন সাক্ষীর বয়ান উল্লেখ করা হয়েছে বলেও সূত্রের খবর। এবার ফের নতুন মামলায় জড়ালেন তিনি। VIP রোডের পাশে একটি বিল্ডিং থেকে লোহা কেনার বরাত পান এক ব্যবসায়ী। কাজে নামতেই ব্যবসায়ীর উপর চড়াও হন দেবরাজের অনুগামীরা। স্পষ্ট বলা হয়, ১ কোটি ২৫ লক্ষ টাকা তোলা না দিলে বন্ধ করে দেওয়া হয় কাজ। কাজটি করতেই দেওয়া হবে না। আগে টাকা তারপর কাজ। শেষমেশ টাকা দিতে রাজি হয়ে যান ব্যবসায়ী। কাজ শুরু করতে দু-দফায় দেবরাজের অনুগামীদের মোট ৫০ লক্ষ টাকা তোলা দেন তিনি। কিন্তু বাকি টাকা দিতে দেরি হয়। বাকি টাকা দিতে না পারলে কাজ বন্ধ করে দেয় দেবরাজের অনুগামীরা। বকেয়া তোলার টাকার জন্য হুমকিও দিতে থাকে দেবরাজের অনুগামীরা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাগুইআটি থানায় অভিযোগ দায়ের করলেন লিলুলার এই ব্যবসায়ী।
আরও পড়ুন – গ্রেফতারি এড়াতে ‘ভূভারত ভ্রমণ’ ! ১৫ দিনে ৭ বার ঠিকানা বদল, কেমন ছক কষেছিলেন দেবরাজ ?
উল্লেখ্য, দুর্নীতি ও সম্পত্তির হিসাব নয়ছয়ের অভিযোগে গ্র্রফতরা হয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলর ও তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সীর স্বামী দেবরাজ চক্রবর্তী। পুরুলিয়া-ঝাড়খণ্ড সীমানা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। রক্ষাকবচ চেয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েও কোনও লাভ হয়নি, গ্রেফতার হন তিনি। কিন্তু, পুলিশের নজর এড়াতে কলকাতা ছেড়ে ভূভারত পর্যটন করেছেন দেবরাজ চক্রবর্তী। পুলিশের দাবি, ১৫ দিনে মোট ৭ বার ঠিকানা বদলে গা ঢাকা দিয়েছিলেন তিনি। দেবরাজ-কাণ্ডে ৮ সদস্যের SIT গঠন করে তদন্ত শুরু করে বিধাননগর কমিশনারেট। তাঁর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে সেখান থেকে মোবাইল ফোন এবং ল্যাপটপ উদ্ধার করে পুলিশ। গ্রেফতারের ৩৫ দিনের মাথায় অবশেষে তাঁর বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেয় পুলিশ। চার্জশিট দাখিল করার পর সরকারপক্ষের আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায় জানান, তদন্তে সিন্ডিকেট পরিচালনা এবং তোলাবাজির অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ মিলেছে। সেই প্রমাণের ভিত্তিতেই এই চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে। আদালতের কাছে আবেদন জানানো হচ্ছে যাতে এই মামলার দ্রুত বিচার শুরু করা হয়।
