ট্রেড লাইসেন্স ছাড়াই টুলুর কারবার?
এখনও অধরা টুলু মণ্ডল। দুবাই হয়ে তুরস্কে পাড়ি দিয়েছে বলেই অনুমান STF-এর। এই আবহেই তাঁর ব্যবসা ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। ট্রেড লাইসেন্স ছাড়াই কি ব্যবসা করছিলেন টুলু? কারণ তাঁর পার্কিং লটের ট্রেড লাইসেন্স যে রয়েছে, এমন কোনও তথ্যই নেই মহম্মদবাজার পঞ্চায়েতের কাছে।
টুলুর ‘সাম্রাজ্যে’ পুলিশি অভিযান
মিনারের বাড়িতে তল্লাশি। উদ্ধার কোটি-কোটি টাকা। তারপরই পুলিশের স্ক্যানারে ফের টুলু মণ্ডল। এবার সিউড়িতে তাঁর বাড়িতে অভিযান চালাল পুলিশ। বীরভূমের বুকে তাঁর প্রাসাদোপম বাড়ি দেখে কার্যত চোখ কপালে।
সিল বাড়ি, গ্রেফতার মিনার
বৃহস্পতিবার গভীর রাত পর্যন্ত টাকা গুনেছে পুলিশ। তারপর সাতসকালে কড়া নিরাপত্তার সঙ্গে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে সেই কোটি কোটি টাকা। নিয়ে যাওয়া হয়েছে মহম্মদবাজার থানায়। এরপরেই প্রথমে বাড়ি সিল। তারপর গ্রেফতার করা হল মিনার মণ্ডলকে। যদিও তাঁর স্ত্রীয়ের দাবি, বাড়িতে যে এত কোটি-কোটি টাকা রয়েছে, তা তাঁরা জানতেনই না। সংশ্লিষ্ট আলমারি যেখান থেকে টাকা-সোনা উদ্ধার হয়েছে, তাতে হাত দেওয়া বারণ ছিল।
ডাকাত ধরে যকের ধন
মিনারের কোটি-কোটি টাকার হদিশ কীভাবে পেল পুলিশ? গোটা ঘটনাকেই কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে কেউটে খুঁজে পাওয়ার সমান বলা যেতেই পারে। পুলিশ সূত্রে খবর, ডাকাত ধরে মেলে ‘গুপ্তধনের’ হদিশ! মিনারের বাড়িতে প্রচুর টাকা-সোনা। খবর পেয়ে ডাকাতির ছক কষা হয়েছিল। কিন্তু সেই ছক মাঝপথেই বানচাল করে পুলিশ। তারপর ডাকাতের দল জিজ্ঞাসাবাদ করতেই পর্দাফাঁস। টুলু মণ্ডলের আত্মীয়ের ঠিকানায় হানা দিতেই মিলল যকের ধন।
অনুব্রত-ঘনিষ্ঠের আত্মীয়
বীরভূমে পাথর ব্যবসায়ীর আত্মীয়ের বাড়িতে যকের ধন! অনুব্রত-ঘনিষ্ঠ পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের আত্মীয়ের ঠিকানায় রাশিকৃত সোনা-টাকা। উদ্ধার সাড়ে ২৮ কোটি টাকা ও ১৫ কেজি সোনা। টাকা-সোনা মিলিয়ে উদ্ধার সাড়ে ৫০ কোটি। প্রায় ২৮ ঘণ্টা পার, পাথর ব্য়বসায়ী টুলু মণ্ডলের আত্মীয়ের বাড়িতে এখনও রয়েছে পুলিশ। শেষের পথে তল্লাশি, উদ্ধার হওয়া কোটি কোটি টাকা-সোনা চলছে ট্রাঙ্কে ভরার কাজ। উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ টাকা নিয়ে যাওয়ার জন্য আনা হয়েছে ২টি পিকআপ ভ্যান।
বীরভূমে কোটি-কোটি টাকা
স্বেচ্ছাবসর নেওয়া বাস চালকের বাড়ি থেকে উদ্ধার হল বিপুল পরিমাণ টাকা। নাম মিনার মণ্ডল। বীরভূমের পাথর ব্যবসায়ী টুলু মণ্ডলের আত্মীয় তিনি। এবার তাঁর বাড়িতেই তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নগদের হদিশ পেয়েছে পুলিশ। সঙ্গে মিলেছে টাকা গোনার মেশিনও। বুধবার সকালেই ওই অবসরপ্রাপ্ত সরকারি বাস চালকের বাড়িতে যৌথ অভিযান চালায় মহম্মদবাজার থানার পুলিশ ও CID-এর তদন্তকারীরা। দরজা ভেঙে ঢুকে পড়ে মহম্মদবাজারের নির্জন এলাকায় স্থিতু ওই বাড়িতে। তারপরই উদ্ধার কোটি-কোটি টাকা। মিলেছে প্রচুর সোনার বাটও। তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত ওই অবসরপ্রাপ্ত সরকারি বাসচালকের বাড়ি থেকে সাড়ে ২৮ কোটি টাকা এবং ১৫ কেজি সোনা উদ্ধার করা গিয়েছে। যার আবার বাজার মূল্য আবার প্রায় ২২ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে প্রায় ৫০ কোটি টাকা। কিন্তু এত টাকা এল কোথা থেকে? প্রাথমিক ভাবে অনুমান করা হচ্ছে, বীরভূমের পাথর খাদানে চলা রাজস্ব দুর্নীতি এই বিপুল টাকা উৎস।
