Baruipur Incident: “যদি তখনও পুলিশ আসত, বাচ্চাকে হয়তো জীবন্ত পাওয়া যেত..”, বারুইপুরে নাবালিকাকে খুন করে ধর্ষণের অভিযোগে প্রশ্নের মুখে পুলিশের ভূমিকা
রঞ্জিত হালদার, পার্থপ্রতিম ঘোষ, আবির দত্ত, কলকাতা: বারুইপুরে নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুনের ঘটনায় প্রশ্নের মুখে পুলিশের ভূমিকা। যদিও সব পক্ষের ভূমিকাই খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিচ্ছে সরকারপক্ষ।
আরও পড়ুন, ‘কাশ্মীরের জন্য জীবনের বলিদান দিয়েছেন শ্যামাপ্রসাদ..’, বললেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ
বারুইপুরের বাসিন্দা অভিযোগ জানিয়ে বলেন, পুলিশ প্রশাসনকে খবর দেওয়া হয়েছে। কোনও সহযোগিতা করেনি। নিহত নাবালিকার দাদু বলেন, আগের দিন বিকেলে যে খবর দেওয়া হয়েছে থানায়, যদি তখনও পুলিশ আসত, বাচ্চাকে হয়তো জীবন্ত পাওয়া যেত। বারুইপুরের বাসিন্দা বলেন, যে সমস্ত পুলিশ এই সমস্ত কাজ করেছে, আমরা চাই ওঁকে যেন সাসপেন্ড করে দেয়। সামনে ছিল অনেক স্বপ্ন। কিন্তু, মাত্র ক্লাস সিক্সেই শেষ হয়ে গেল সবকিছু। একটা ছোট্ট মেয়ের নৃশংস পরিণতি।প্রতিবাদে রবিবার অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর।
পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশাল পুলিশ বাহিনীকে রাস্তায় নামতে দেখা যায়।গতকাল প্রেসিডেন্সি রেঞ্জের IG কঙ্করপ্রসাদ বাড়ুই বলেন, প্রত্যেক লোকের উপযুক্ত সাজা হবে। আমরা ফাঁসির সাজা দেব। ইতিমধ্যেই মূল অভিযুক্ত-সহ বেশ কয়েকজনকে পুলিশ গ্রেফতারও করেছে,কিন্তু, সেই পুলিশের ভূমিকা নিয়েও গুরুতর অভিযোগ তুলছেন, নিহতের পরিজন থেকে শুরু করে এলাকাবাসীদের অনেকে।
বারুইপুরের বাসিন্দা বলেন,আমরা ২ জনকে সন্দেহ করেছি। তাদেরকে তোলার পরে আমরা সবাই মিলে গিয়ে, ক্যাম্পের পুলিশ গেছে, কোনও পুলিশ আসেনি এছাড়া। উদ্ধারে শুধু আমাদের ছেলেরা ছিল। আর ক্যাম্পের একজন ব্যক্তি ছিল। বয়স্ক ব্যক্তি। নিহতের পরিবার সূত্রে খবর, শনিবার নাবালিকাকে খুঁজে না পাওয়ার পর স্থানীয় ফাঁড়িতে অভিযোগ জানানো হয়। সেখানকার দু’জন পুলিশ স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে নাবালিকাকে খুঁজতে বের হন। কিন্তু অভিযোগ পরে আর পুলিশের সহযোগিতা সেভাবে মেলেনি।
নিহত নাবালিকার আত্মীয় বলেন, আমাদের যে ক্যাম্পের পুলিশ, তারাও আমাদের সঙ্গ দিয়েছে। তারা রেললাইন গিয়েছে, বিভিন্ন জায়গায় গিয়েছে। যাওয়ার পর একটা সময় দেখা গেল যে, পুলিশকে বারবার ফোন করা হয়েছে। কিন্তু প্রশাসনের তরফ থেকে সারারাত যখন আমাদের বারবার (ফোন) যায়, একটিবার মাত্র এসে শুনে যাওয়া পরে, আর দ্বিতীয়বার কোনও প্রশাসনের তরফ থেকে কেউ আসেনি।
রবিবার মৃতদেহ উদ্ধারের পর উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। সকাল ৯টা থেকে শুরু হয় রাস্তা অবরোধ। কিন্তু, সেখানে পুলিশ পৌঁছয় দেড় ঘণ্টারও পর… ১০টা ৪৭ মিনিটে। অভিযোগ, এরপর ১১টা নাগাদ পুলিশের সামনেই পিটিয়ে খুন করা হয় ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল নামে এক সন্দেহভাজনকে।১১টা ৪৫ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছন পুলিশ সুপার। কিন্তু যেখানে আগের দিন রাত থেকে উত্তপ্ত পরিস্থিতি, সেখানে পুলিশ বাহিনীর পৌঁছতে এত সময় লাগল কেন? কেন শুধু মাত্র ফাঁড়ির পুলিশের উপরেই গোটা বিষয়টা এতক্ষণ ছেড়ে রাখা হয়েছিল?
সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী বলেন, পুলিশ অপদার্থতা করেছে, তা না হলে মেয়েটার প্রাণ যেত না। ফলে মেয়েটার প্রাণ যারা নিয়েছে, তারা যেমন অপরাধী, যাদের অপরাধে প্রাণ গেল, অপদার্থতায়, তারাও সমানভাবে দায়ী। যদিও সব পক্ষের ভূমিকাই খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিচ্ছে সরকারপক্ষ। শিল্পমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা তাপস রায় বলেন, সমস্ত কিছুটাই দেখা হবে। এবং কারও ত্রুটি-বিচ্যুতি কিন্তু, এটা ওই পার পাওয়া সরকারের সরকার নয়। শনিবারের ঘটনায় আক্রান্ত হয়েছে পুলিশও।
Suvendu Adhikari : শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জন্মজয়ন্তীতে বাম-কংগ্রেস-তৃণমূলকে নিশানা মুখ্যমন্ত্রীর
