Voice of Eastern India

Abhishek Or Kalyan: কল্যাণ নাকি অভিষেক, রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ের মধ্যেই আরও এক ধর্মসঙ্কটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়


কলকাতা: দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূলের ক্রাইসিসে ত্রাতা সেই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায় যাঁর ওপর ভরসা করেছেন চোখ বন্ধ করে, আর এবার সেই শ্রীরামপুরের সাংসদকে কার্যত উপেক্ষা করলেন অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। যার জেরে অপমানিত, আহত হয়ে অভিষেকের মামলা থেকেই সরে গেলেন বর্ষীয়ান আইনজীবী কল্য়াণ বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। দলনেত্রীকে আল্টিমেটামও দিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন: “আমার মতো সৎ রাজনীতিবিদ ক’জন আছে? কিন্তু আমাকেও তো চোর চোর শুনতে হচ্ছে ওর জন্য”, অভিষেককে নিয়ে বিস্ফোরক কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভও উগরে দিয়েছেন কল্য়াণ বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। আমাকেও তো চোর চোর শুনতে হয়েছে ওর জন্য়, বলেন তৃণমূল সাংসদ। কোর্ট, ক্রাইসিস আর কল্য়াণ; তৃণমূলে দীর্ঘদিন ধরেই এই তিনটে শব্দ কার্যত সমার্থক। যে কোনও ক্রাইসিসে, যে কোনও জটিল মামলায়, মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায় যাঁর ওপর ভরসা করেছেন, তিনি কল্য়াণ বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। দশকের পর দশক ধরে কোর্টে অবধারিভাবে যে মানুষটাকে গায়ে কালো কোট চাপিয়ে, তৃণমূলের হয়ে সওয়াল করতে দেখা গেছে, তিনি কল্য়াণ বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। সেটা তৃণমূল বিরোধী থাকাকালীন সিঙ্গুর, নন্দীগ্রামের মতো মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া মামলা হোক বা এসআইআর অথবা আইপ্য়াকের মতো সাম্প্রতিক হাইপ্রোফাইল মামলা। কিন্তু, সই জাল-কাণ্ডে মামলার ক্ষেত্রে, সেই কল্য়াণ বন্দ্য়োপাধ্য়ায়কেই হঠাৎ উপেক্ষা করলেন অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়।

আর তারপরই কল্যাণ বলেন, “সত্য়ি কথা, অভিষেক ব্য়ানার্জি দিদির ব্লাড রিলেশন, ভাইপো। কিন্তু ৪০ বছর আমরা দিদির জন্য় খেটেছি। আমাদের সঙ্গে রক্তের সম্পর্ক নয়। কিন্তু দিদিকে বুঝে নিতে হবে।” আটের দশকের শুরুতে আইনজীবী হিসেবে কেরিয়ার শুরু করেন কল্য়াণ বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। অর্থাৎ ৪০ বছরের বেশি আইনজীবী হিসেবে প্র্য়াকটিস করছেন। তৃণমূলের ক্ষমতায় আসার রাস্তা তৈরি করেছিল সিঙ্গুর, নন্দীগ্রাম। তবে এসব ইস্য়ুতে কোর্টে তৃণমূলের হয়ে আইনি লড়াইটা যিনি চালিয়েছিলেন, তাঁর নাম কল্য়াণ বন্দ্য়োপাধ্য়ায়।

আরও পড়ুন: দিদিকে আজকে বুঝে নিতে হবে এই রাজনীতিতে অভিষেককে দরকার নাকি আমার মতো লোকেদের দরকার আছে: কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়

বিধানসভা ভোটের আগে আইপ্য়াক-মামলায় তৃণমূল যখন প্রশ্নের মুখে, তখন সেই মামলায় মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের সওয়াল করেছিলেন কল্য়াণ বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। ভোটের আগে মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায় যখন এসআইআর নিয়ে সওয়াল করতে সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছে গেছিলেন, তখনও তাঁর পাশে ছিলেন সেই কল্য়াণ বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। এবার অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ে আচরণে তিনি অপমানিত, আহত হয়ে মামলা থেকেই সরে গেলেন। কল্য়াণ বন্দ্য়োপাধ্য়ায় বলেন, “এখানে বসগিরি করার জায়গা থাকে না। সম্মান, শ্রদ্ধা সবাইকে করতে হয়। একটা ৪৫ বছর আমার প্রফেশন, তাঁকে এইভাবে অসম্মান করছে! এত ঔদ্ধত্য়! কেন মানতে যাব?”

বহু ক্রাইসিস থেকে তৃণমূলকে উদ্ধার করা কল্য়াণ বন্দ্য়োপাধ্য়ায় এবার নেত্রীর সামনে আল্টিমেটাম দিয়েছেন। হয় তিনি, নয় অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। কী করবেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়? রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ের মধ্যেই আরও এক ধর্মসঙ্কটে মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়।

Source link



Source link

Leave A Reply

Your email address will not be published.