কলকাতা : বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর একের পর এক মামলার অভিযোগে জর্জরিত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার তাঁর বিরুদ্ধে উঠল ত্রাণ দুর্নীতির নতুন অভিযোগ। আমফানের সময় ৪৭ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে বলে এবার ফলতা থানায় অভিযোগ দায়ের করলেন বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস। অভিযোগপত্রে নাম রয়েছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ জাহাঙ্গির খান, তৎকালীন বিধায়ক শঙ্করকুমার নস্কর সহ একাধিক সরকারি আধিকারিকের। তবে এই বিষয়ে মুখ খোলেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ।
সই জালিয়াতি, প্রাথমিকে নিয়োগ-দুর্নীতি, উস্কানিমূলক মন্তব্য়, মাটি চুরি থেকে, আমফানের ত্রাণ-দুর্নীতি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ। তার মধ্যে বেশ কয়েকটিতে, তদন্তকারী সংস্থা তাঁকে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদও করেছে। এই প্রেক্ষাপটে নিজের লোকসভা কেন্দ্র ডায়মন্ডহারবারে, নতুন মামলায় জড়ালেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্ত্রাণ সামগ্রীতে দুর্নীতির অভিযোগে বিষ্ণুপুর থানার পর, এবার ফলতা থানায় তৃণমূল সাংসদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করলেন বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস ওরফে ববি। তোলা হয়েছে, ৪৭ কোটি টাকার ত্রাণ দুর্নীতির অভিযোগ।
এই ঘটনা নিয়ে তৃণমূলের মুখপাত্র ও বিধায়ক কুণাল ঘোষ জানান, ”FIR মানেই বা চার্জশিট মানেই, সে অপরাধী এটা ভাবার কোনও কারণ নেই, সব উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। রাজনৈতিক বদলা, প্রতিহিংসা এসমস্ত কাণ্ডকারখানা চলছে। ”
ফলতা থানায় দায়ের হওয়া FIR-এ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, তাঁর ঘনিষ্ঠ জাহাঙ্গির খান, ফলতার তৎকালীন তৃণমূল বিধায়ক শঙ্করকুমার নস্কর ও একাধিক জনপ্রতিনিধির নাম রয়েছে অভিযোগে। ১৯ জুন, দায়ের করা অভিযোগে নাম রয়েছে, ফলতার তৎকালীন BDO-সহ একাধিক সরকারি আধিকারিকেরও। অভিযোগ, আমফানের ত্রাণ, বাড়ি তৈরি, মৎস্যজীবীদের নৌকা ও জাল নিয়ে দুর্নীতি হয়েছে ৪৭ কোটি টাকারও বেশি।
অভিযোগকারী বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস জানান, একটা মোবাইল নম্বরে একসঙ্গে ২৫-৩০ জনের নাম ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। একটা ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টে ২৫-৩০ জনের নাম ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই নামে ১৫-২০টা নাম নাম রয়েছে। একই নাম! আমি তো ৩ রাত পুরো জেগে ছিলাম এই পুরোটা ছাঁকতে গিয়ে। যারা আমফানে ক্ষতিগ্রস্ত, তাদের টাকাগুলো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তার গ্যাঙেরা মিলে লুঠ করেছে। এবং সেটা প্রশাসনের একটা পক্ষের সহযোগিতায়।
অতি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় আমফানে বিপর্যস্ত হয় দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও সুন্দরবন এলাকা। বহু বাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়। অসংখ্য বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঝড়ে যাঁদের বাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়, তাঁদের পরিবারপিছু ২০ হাজার টাকা এবং যাঁদের বাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাঁদের পরিবারপিছু ৫ হাজার টাকা বরাদ্দ করে সরকার। ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ ও বাড়ি মেরামতির নামে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা দুর্নীতি হয়েছে বলে, গত ১৩ জুন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে বিষ্ণুপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন বিজেপি নেতা অভিজিৎ দাস। এবার ফলতা থানায় দায়ের হল আরও ৪৭ কোটি টাকার ত্রাণ দুর্নীতির অভিযোগ।
BJP News: রাজ্য থেকে হারিয়ে যাওয়া, ভুলিয়ে দেওয়া যোগকে ফিরিয়ে এনেছেন প্রধানমন্ত্রী: মুখ্যমন্ত্রী
