সমীরণ পাল, উত্তর ২৪ পরগনা : পরিচয়ে তিনি গৃহবধূ। অথচ তিনিই নাকি আন্তঃরাজ্য আগ্নেয়াস্ত্র পাচারকারী গ্যাংয়ের মাথা? গোপনসূত্রে খবর পেয়ে এবার পূজা বিশ্বাস নামে এক গৃহবধূকে গ্রেফতার করল পুলিশ। রবিবার সকালে উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরে বড়সড় আন্তঃরাজ্য অস্ত্র-পাচার চক্রের হদিশ পেল CID ও অশোকনগর থানার পুলিশ। ধৃতের ব্যাগ থেকে বাজেয়াপ্ত করা হল কাঁড়ি কাঁড়ি ম্যাগাজিন, পিস্তল থেকে ২০০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ। বিহার থেকে আগ্নেয়াস্ত্র পাচার ! হাবড়া-নৈহাটি রোডের কাছে CID-র জালে মহিলা অস্ত্র পাচারকারী। ধৃতের থেকে উদ্ধার ২০০ রাউন্ড কার্তুজ। অভিযুক্ত পূজা বিশ্বাস বিহার থেকে আগ্নেয়াস্ত্র কিনে এরাজ্যে ব্যবসা করছিল, দাবি পুলিশের।
সন্দেহ ছিল আগেই। সেই মতো আগেভাগে ওঁত পেতে ছিল পুলিশ। প্রথমে ম্যাজিক ভ্যান থামানো, তারপর শুরু হল তল্লাশি। আর ব্যাগ খুলতেই কার্যত চোখ কপালে ওঠার জো। ব্যাগের ভিতরে ঠাসা আগ্নেয়াস্ত্র। ম্যাগাজিন, কার্তুজ, কী নেই সেখানে। রবিবার সাতসকালে, উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগরে এভাবেই আন্তঃরাজ্য অস্ত্র-পাচার চক্রের হদিশ পেল CID ও অশোকনগর থানার পুলিশ। আর এই বিপুল আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজ-সহ যে মহিলাকে গ্রেফতার করল পুলিশ, তিনি নিজেকে গৃহবধূ হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন।
সাদা রঙের ব্যাগ হাতে সিঁড়ি দিয়ে উঠছে কিশোর, একটি ঘুরে ঢুকছে সে, বেরিয়ে আসতেই…
নাম পূজা বিশ্বাস। বাড়ি হাবড়া পুরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডে। প্রাথমিকভাবে তদন্তকারীদের দাবি, বিহার থেকে অস্ত্র এনে হাবরায় তা বিক্রির ছক কষা হয়েছিল। পুলিশ সূত্রে দাবি, বিহার থেকে বিপুল পরিমাণে আগ্নেয়াস্ত্র কিনে এরাজ্যে ব্যবসা চালানো হচ্ছে বলে গোপন সূত্রে খবর পায় তারা। একাধিক মহিলাদের মাধ্যমে পাচারচক্র চলছিল বলে দাবি পুলিশের। রবিবার সকাল ৬টা নাগাদ, অশোকনগরের ৮ নম্বর মোড় এলাকার কাছে একটি ম্যাজিক ভ্যান এসে দাঁড়ায়। আগের থেকেই সেখানে ওঁত পেতে ছিল CID ও অশোকনগর থানার পুলিশ। এরপর গাড়ি থামিয়ে ওই মহিলাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তল্লাশি চালানো হয় তাঁর ব্যাগে। এরপরই মুড়িমুড়কির মতো বেরিয়ে পড়ে একের পর এক আগ্নেয়াস্ত্র।
২১ জুলাই” src=”https://www.youtube.com/embed/PKwLsAu-z10″ width=”872″ height=”490″ frameborder=”0″ allowfullscreen=”allowfullscreen”>
ধৃত মহিলার ব্যাগ থেকে উদ্ধার হয়েছে ৪টি 7mm পিস্তল, দুটি 9mm পিস্তল, ১২টি ম্যাগাজিন ও প্রায় ২০০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ মিলেছে বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। এছাড়াও ধৃতের কাছ থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে অন্তত ১২ হাজার টাকা ও দুটি মোবাইল ফোন। দক্ষিণ হাবড়ায় নিবেদিতা রোডের ওপরে একটি বাড়িতে থাকেন ধৃত মহিলা পাচারকারীর স্বামী। পেশার রাজমিস্ত্রি তিনি। যদিও তাঁর দাবি, ১০-১২ দিন আগে স্ত্রীর সঙ্গে শেষবার দেখা হয়েছিল। গোয়েন্দাদের প্রাথমিক অনুমান, যাতে কেউ সহজে সন্দেহ না করে, সেই কারণেই অস্ত্র পাচারের গ্যাংরা মহিলাকে ব্যবহার করেছে। যিনি আবার নিজেকে গৃহবধূ হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতের কাছ থেকে একটি ট্রেনের টিকিটও পাওয়া গেছে, যা দেখে CID সূত্রে দাবি, এই মহিলার সঙ্গে বিহার-যোগ রয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে বিহারের মুঙ্গেরের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে অস্ত্র পাচারের যোগ। হাবড়ার এই বাড়ি তৈরির পিছনে অর্থের উৎস কী? তাও খতিয়ে দেখছে CID.
