Bhangar Bomb Blast : ভাঙড় বিস্ফোরণের মাস্টারমাইন্ড সওকতই, পেশ চার্জশিট, কী ঘটেছিল সেইদিন ? সবটা জানাল NIA
কলকাতা : ২৬ মার্চ ২০১৮ সাল, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী ও পুলিশ মন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠকে জীবনতলায় জাহাঙ্গীরকে ঢুকতে না দেওয়া নিয়ে ‘স্নেহের বকুনি’ দিয়েছিলেন সওকত মোল্লাকে। বাস টার্মিনালের আবেদন করায় সওকতকে তৃণমূল নেত্রী বলেছিলেন, ”জীবনতলা কোনও বাস টার্মিনাল হওয়ার জায়গা? তুইতো ওখানে মারপিট করিস আর বোম বাঁধিস। তুই জানবি কি করে।” আর এই সওকতকেই এবার ভাঙড় বিস্ফোরণ মামলায় মূল অভিযুক্ত হিসেবে ঘোষণা করল NIA। এই মর্মে আদালতে চার্জশিটও পেশ করা হয়। কেন্দ্রীয় এজেন্সির দাবি, গোটা ঘটনার নেপথ্যে সওকত মোল্লাই ছিলেন। সাহস করে কেউ তাঁর নাম বলতে পারেননি।
কী ঘটেছিল সেই দিন রাতে ?
১৮ মার্চ, বিধানসভা ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার মাত্র ৬ দিনের মাথায় রাতে বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে ভাঙড়ের চালতাবেড়িয়ার দক্ষিণ বামুনিয়া গ্রাম। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ তোলেন, নির্মীয়মান এই ঘরে বোমা বাঁধার সময় বিস্ফোরণ ঘটে। এর পরের দিন সকালে উত্তর চব্বিশ পরগনার হাড়োয়ায় রাস্তার ধার থেকে উদ্ধার হয় দেগঙ্গার গাংনিয়া এলাকার ১৭৮ নম্বর বুথের তৃণমূল সভাপতি মসিউর কাজির ক্ষতবিক্ষত ও আংশিক ঝলসানো দেহ।
সরকার পরিবর্তন হতেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে হিংসা মামলার ফাইল খুলে যায়। খোঁজ চলে সওকত-এর। এই ঘটনার মামলায় গত ৪ জুন দিনভর সওকত মোল্লার খোঁজে চিরুনি তল্লাশি চালায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়কের বাড়ির পাশাপাশি তাঁর অফিস, ছেলের রেস্তোরাঁ, আত্মীয়ের বাড়ি, পঞ্চায়েত সমিতির সহ সভাপতির বাড়ি, বিস্ফোরণের দিন নিহত তৃণমূলের বুথ সভাপতির বাড়ি, ধৃত তৃণমূল নেতার বাড়ি এবং বিস্ফোরণের দিন ব্যবহৃত অ্যাম্বুল্যান্স চালকের বাড়িতে হানা দেয় NIA । কিন্তু কোনও লাভ হয়নি। টানটান নাটকের পর তার পরের দিন রাতে রুবির মোড় থেকে, অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত তৃণমূল নেতা সওকত মোল্লাকে গ্রেফতার করে NIA।
কেন্দ্রীয় এজেন্সির ৬৫ পাতার চার্জশিটে কী রয়েছে ?
এই মামলায় ৮৭ দিনের মাথায় মঙ্গলবার ব্যাঙ্কশাল কোর্টে ৬৫ পাতার চার্জশিট জমা দিল কেন্দ্রীয় এজেন্সি। বিস্ফোরক আইনে চার্জশিট জমা দিয়েছে NIA. চার্জশিটে সওকত মোল্লাকে মূল অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। NIA-র দাবি, ভোটের আগে ভয় দেখানোর জন্য বোমা বাঁধা হচ্ছিল। ঘটনার সময় সওকত মোল্লা তৃণমূলের বিধায়ক ছিলেন। গোটা ঘটনার নেপথ্যে তিনিই ছিলেন। সাহস করে কেউ তাঁর নাম বলতে পারেননি। তাই তাঁর নামে তখন FIR হয়নি। তদন্তে সওকত মোল্লা কোনও সহযোগিতা করছেন না বলে দাবি করেছে NIA.
তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ কী বলেন ?
কুণাল ঘোষ জানান, ”এটা যদি প্রতিহিংসার চার্জশিট হয়, তবে প্রমান হয়ে যাবে। চার্জশিট মানেই কিন্তু তিনি অপরাধী নন। অনেক সময় চার্জশিট মানে যেটা সাজাতে চায় সেটার একটা গল্প লিখে দিলেই হয়ে যায়। বিচার কোর্টে হবে।
মঙ্গলবার সওকত মোল্লাকে আদালতে পেশ করার সময় ওঠে চোর স্লোগান। মাছ চোর, মাছ চোর…সওকতদা মাছ চোর…চোরের দলের সবাই চোর…। প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ককে লক্ষ্য করে ডিমও ছোড়া হয়। আদালতে চার্জশিট পেস করার সময় NIA-র তরফে আবেদন করা হয়, সওকত মোল্লাকে যাতে প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারে না রাখা হয়। তৃণমূল নেতার আইনজীবী পাল্টা বলেন, এবার ওঁরা জেলটাও ঠিক করে দেবেন আপনারা? উত্তরে NIA-র আইনজীবী বলেন, আমরা ওঁর সুরক্ষার জন্যই বলেছি।
TMC News: শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাবের খেলার মাঠের ঘর থেকে উদ্ধার প্রচুর ত্রাণ সামগ্রী
