Blood Donation Scam: টাকার বিনিময়ে নাবালকদের রক্তদান করানোর অভিযোগ, ওড়িশা থেকে গ্রেফতার মূল মাথা দুর্গাপুরের কিংশুক
মনোজ বন্দ্যোপাধ্যায়, দুর্গাপুর, পশ্চিম বর্ধমান : নাবালকদের টাকা দিয়ে রক্তদান করানোর অভিযোগ। দুর্গাপুরের ঘটনায় মূল মাথা কিংশুক মুখোপাধ্যায় গ্রেফতার। নাবালক ছাত্রদের আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে রক্তদান করানোর ঘটনায় গ্রেফতার আরও একজন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গোটা ঘটনার মূল কাণ্ডারী হিসেবে উঠে আসা কিংশুক মুখার্জিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে দুর্গাপুর থানার পুলিশ। ওড়িশা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রের দাবি। অভিযোগ, দুর্গাপুরের বিধাননগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ইস্পাত নগরীর একটি বেসরকারি স্কুলের কয়েকজন নাবালক ছাত্রের থেকে রক্ত নেওয়া হয়। রক্তদানের বিনিময়ে ওই ছাত্রদের টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পরেই দুর্গাপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।
তদন্ত যত এগিয়েছে, ততই এই ঘটনাকে ঘিরে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে বলে দাবি করেছেন পুলিশের তদন্তকারী আধিকারিকরা। পুলিশের তদন্তে প্রথমে উঠে আসে ওই স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র দেবপ্রিয় চক্রবর্তীর নাম। অভিযোগ, দেবপ্রিয়ই বিভিন্ন আর্থিক প্রলোভন দেখিয়ে নাবালক ছাত্রদের হাসপাতালে নিয়ে যেত। জিজ্ঞাসাবাদে দেবপ্রিয় পুলিশের কাছে দাবি করে, তাঁকে এই কাজে নামানো হয়েছিল অন্যদের মাধ্যমে। তদন্তে এরপর সামনে আসে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সদস্য অমিত প্রসাদ যাদবের নাম। একই সঙ্গে এই ঘটনায় মালদহের বাসিন্দা মহম্মদ হাবিবুল্লাহর যোগসূত্রের কথাও উঠে আসে। হাবিবুল্লা বিধান নগরের একটি হোটেলে কাজ করত।
‘যেখানে সেখানে গেরুয়ার ব্যবহার করা যায় না…’, অ্যাকাডেমির ‘রংবদল’, কী বলছেন শমীক ভট্টাচার্য
তবে তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দেয় কিংশুক মুখার্জির নাম। পুলিশ সূত্রের দাবি, নাবালকদের রক্তদানের এই গোটা ব্যবস্থার পিছনে কিংশুকের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। কীভাবে নাবালকদের টাকার প্রলোভন দেখিয়ে রক্তদানের জন্য রাজি করানো হয়েছিল, কারা তাদের হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিল এবং এই প্রক্রিয়ার পিছনে আর কারা যুক্ত ছিল সেই সমস্ত বিষয় তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। শুধু কয়েকজন ছাত্রকে রক্তদান করানোই উদ্দেশ্য ছিল, নাকি এর পিছনে আরও বড় কোনও চক্র কাজ করছিল, সেই প্রশ্নও এখন তদন্তকারীদের সামনে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান চালিয়ে দেবপ্রিয় চক্রবর্তী, মহম্মদ হাবিবুল্লাহ এবং অমিত প্রসাদ যাদবকে গ্রেফতার করে দুর্গাপুর থানার পুলিশ। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারীরা কিংশুক মুখার্জির নাম এবং এই গোটা ঘটনায় তার ভূমিকা সম্পর্কে আরও তথ্য পায় বলে দাবি করে পুলিশ।
কিংশুকের বাড়ি দুর্গাপুরের বিধাননগরে হলেও এই ঘটনার পর থেকে সে ওড়িশায় ঢাকা দিয়েছিল।এরপরই উড়িষ্যায় অভিযান চালিয়ে কিংশুককে গ্রেফতার করা হয়। কিংশুকের সঙ্গে আর কার কার যোগাযোগ ছিল, নাবালক ছাত্রদের রক্তদানের জন্য কীভাবে এবং কার মাধ্যমে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হতো, এই রক্তদানের বিনিময়ে টাকাপয়সার কেনদেন কীভাবে চলত এবং এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না – সমস্ত বিষয়ই খতিয়ে দেখার জন্য কিংশুককে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। দুর্গাপুর পূর্বের বিজেপি বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘পুলিশের তদন্ত এগোচ্ছে। রং না দেখে পুলিশ তদন্ত করছে। এই গুরুতর অপরাধের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের শাস্তি হবেই।’
