Voice of Eastern India

Durga Puja: কাঞ্চনবর্ণা প্রতিমা, মহালয়ার সন্ধ্যায় কালী আরাধনা! বৈকুণ্ঠপুর রাজবাড়ির দুর্গাপুজোয় অভিনবত্ব


রাজা চট্টোপাধ্যায়, জলপাইগুড়ি: দুর্গার চক্ষুদানের মধ্যে দিয়ে শনিবার, মহালয়ার দিন থেকে পুজো শুরু হয়ে গেল জলপাইগুড়ির বৈকুণ্ঠপুর রাজবাড়িতে (Jalpaiguri News)। এই বছর ৫১৭ বছরে পা দিল রাজবাড়ির দুর্গাপুজো। পারিবারিক নিয়ম অনুযায়ী প্রথমে সোনার দুর্গার চক্ষুদান। এরপর মৃন্ময়ী প্রতিমার চক্ষুদান করা হয়।

মহালয়ার দিন অর্থাৎ শনিবার চক্ষুদান পর্বের মধ্যে দিয়েই দুর্গার আরাধনা শুরু হয়ে যায় বৈকুণ্ঠপুর রাজবাড়িতে। কালীকা পুরাণ মতে দুর্গা পুজো হয় রাজবাড়িতে, তাই মহালয়ার সন্ধ্যা রাতে কালী পুজো করা হয় বৈকুণ্ঠপুর রাজবাড়িতে।

রাজা নেই রাজত্ব নেই, কিন্ত পুরনো প্রথা মেনেই এখনও  চলেছে জলপাইগুড়ি বৈকুণ্ঠপুর রাজবাড়ির দুর্গাপুজো। অর্থাৎ প্রাচীন ঐতিহ্য মেনেই শুরু হল জলপাইগুড়ি বৈকুণ্ঠপুর রাজবাড়ির দুর্গাপুজার প্রস্তুতি।

কাঠামো পুজো, নন্দোৎসব এবং কাদা খেলার মধ্যে দিয়েই আনুষ্ঠানিকভাবে ৫১৭ বছরের রাজবাড়ির দুর্গা পুজোর প্রস্তুতি শুরু হয়। জলপাইগুড়ি বৈকুণ্ঠপুর রাজপরিবারের নিয়ম অনুযায়ী জন্মাষ্টমীর পরের দিন কাঠামো পুজো হয়।
 
প্রতিবছর নিরঞ্জনের পর প্রতিমার মূল কাঠামোকে জল থেকে তুলে রাজবাড়ির মণ্ডপে রেখে দেওয়া হয়। সেই কাঠামোকেই পুজো করা হয়। কাঠামোপুজোর পর নন্দোৎসব এবং দধি কাদো খেলা হয়,  এলাকার কচিকাঁচারাও অংশগ্রহণ করে এই খেলাতে। কাদা খেলার মাটি দিয়েই প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু হয় মনসা পুজোর পরের দিন থেকে। এদিন থেকেই প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু হয়।

বৈকুণ্ঠপুর রাজপরিবারের দুর্গা পুজোর ইতিহাসে নরবলির কথা শোনা যায়। রাজপরিবারের সদস্যরা শিকারে গিয়ে দুর্গাপুজোর সূচনা করেন নিজেদের এক সঙ্গীকে নরবলি দিয়ে। সেই থেকে প্রতিমার গায়ের রঙ তপ্ত কাঞ্চন বর্ণা অর্থাৎ সোনাকে গলালে এই রঙটি দেখা যায় সেটাই এখানে প্রতিমার রঙ।

এখন চালের মণ্ডকে মানুষের প্রতিকৃতি বানিয়েই প্রতীকি নরবলি দেওয়ার রেওয়াজ আছে। নবমীর দিন বৈকণ্ঠপুর রাজবাড়িতে সিঁদুর খেলায় মাতে গোটা শহরবাসী ও মহিলারা। দশমীর দিন বৈকণ্ঠপুর রাজবাড়ির প্রাচীন রীতি মেনে দেবীর দশমী পুজো শেষ হয়। এরপর দেবীকে সিঁদুর ছোয়াতে ধীরে ধীরে মহিলাদের ভিড় বাড়তে থাকে রাজবাড়ি চত্বরে। সিঁদুর ছোয়ানোর পর শুরু হয় সিঁদুর খেলা।

এদিন বন্দুকে শূন্যে গুলি ছুড়ে রাজবাড়ির ভাসানের কাজ শুরু করেন রাজ পরিবারের সদস্য সৌম্য বসু। এরপর গোটা রাজবাড়ি চত্বর কার্যত চলে যায় যুবক যুবতীদের দখলে, শুরু হয় নাচ, তারপর শুরু হয় ভাসান। এদিন রাজবাড়ির নাটমন্দির সংলগ্ন পুকুরে প্রতিমা নিরঞ্জন করা হয়।

Source link



Source link

Leave A Reply

Your email address will not be published.