কলকাতা: রাজ্য পুলিশের দুর্নীতি দমন শাখার হাতে গ্রেফতার সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার। জামবনির BDO অফিস থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ২ লক্ষ টাকা ঘুষ নেওয়ার সময় হাতেনাতে পাকড়াও করা হয়েছে বিমল সাহা নামের সেই সাব অ্য়াসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ারক। ইতিমধ্য়েই রাজ্যের তরফে দুর্নীতি নিয়ে ‘জিরো টলারেন্স বার্তা দেওয়া হয়েছে। কোনওরকম দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না বলে বার্তা দেওয়া হয়েছিল প্রশাসনের তরফে।
একেবারে ছদ্মবেশে অফিসাররা বিডিও অফিসে পৌঁছেছিলেন। টাকার মধ্য়ে কিছু কেমিক্যাল লাগিয়ে নেওয়া হয়। সাধারণত এক্ষেত্রে ফেনলফথালিন টেস্টের মাধ্য়মে পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয়। রাসায়নিক পরীক্ষা করা হয়। আর তখনই ধরা পড়ে যান সেই আধিকারিক। তিনি যখন টাকাগুলো নিতে যান, তাঁর হাতে সেই রং লেগে যায়। জলে সেই আধিকারিদের হাত চোবানো হলে দেখা যায় যে জলের রং গোলাপি হয়ে যাচ্ছে।
সূত্রের খবর, জাববনির বিডিও অফিস থেকে ঘুষ নিচ্ছিলেন। তিনি মূলত একজন কনস্ট্রাক্টর। তিনি টাকার বিনিময়ে কাজের জন্য ঘুষ নিচ্ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও কড়া সুরে জানিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘জামবনিতে ঘুষ নিতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়েছে। কোনও সরকারি অফিসে টাকা দিয়ে আর কোনও কাজ হবে না। ২ লক্ষ টাকা ঠিকাদারের কাছ থেকে নিচ্ছিল। অ্য়ান্টি কোরাপশন ইউনিট কাজ করছে।’
এদিকে, তোলাবাজি নিয়ে জিরো টলারেন্স রাজ্য সরকারের। এ নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় প্রচার দুর্নীতি দমন শাখার। সরকারি কর্মচারী ঘুষ চাইলেই টোল ফ্রি নম্বরে যোগাযোগ করতে বার্তা। চালু টোল ফ্রি হেল্পলাইন নম্বর। ‘দুর্নীতিকে না বলুন’, ‘যদি কোনও সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী ঘুষ দাবি করেন বা ঘুষ নেন’, ‘ভয় দেখান বা জোর করে টাকা আদায় করেন, সেই ব্যাপারে জানান’। সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট দুর্নীতি দমন শাখার। 9836233891 হেল্পলাইন নম্বরে যোগাযোগ করতে বার্তা
শুভেন্দু অধিকারী এর আগে জানিয়েছিলেন, ‘একটা গাড়ির কাছ থেকে টাকা তুললে সাসপেন্ড করেছি। অ্য়ারেস্ট করব। এবং, সরকারি কর্মচারী, পুলিশকর্মীদের বিরুদ্ধে যে সরকারি ব্য়বস্থা আছে, তাকে আরও মজবুত বানাচ্ছি। একদম আমার কাছে মেসেজ সরাসরি এলেই সাসপেন্ড হবে, অ্য়ারেস্ট হবে। টোল ফ্রি নম্বরও চালু হচ্ছে। সব সিন্ডিকেট, বালি, কয়লা… যেখানে যা টোল ফ্রি-তে জানাবেন। নবান্নে কন্ট্রোল রুম… ধরব, অ্য়ারেস্ট করব। সাসপেন্ড করব, বাড়ি পাঠাব।’
