New Market Hotel Fire: পুড়ে নয়, তাহলে কীভাবে মৃত্যু হোটেলের ৯ আবাসিকের? নিউ মার্কেট অগ্নিকাণ্ডে ভয়াবহ তথ্য প্রকাশ্যে
কলকাতা: মধ্যরাতে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন সবাই, সেই সময়েই ঘটে যায় অগ্নিকাণ্ডের মতো ভয়াবহ ঘটনা। অধিকাংশ বাসিন্দাই এসেছিলেন চিকিৎসার জন্য। যখন আগুন লাগে, তখন ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন সবাই। আগুন লেগেছে বুঝতে পেরেও বেরনো সম্ভব হয়নি। ঘটনায় ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, বাকি আবাসিকদের উদ্ধার করা হয়েছে। কাউকে জানলার কাচ ভেঙে তো কাউকে বাথরুমের দরজা ভেঙে উদ্ধার করা হয়েছে। একই বিল্ডিংয়ে ছিল একাধিক হোটেল চলছিল, এমনটাই জানা যাচ্ছে। যে হোটেলে আগুন লাগে, সেই হোটেলের নাম, ‘শিখা ইন’। সেখানকারই ৯ বাসিন্দার মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের বের করা সম্ভব হয়নি।
পুড়ে নয়, তাহলে কীভাবে মৃত্যু নিউ মার্কেটের আগুন লেগে যাওয়া হোটেলের বাসিন্দাদের?
পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে, ৯ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তারপরেই চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে তাঁদের মৃত বলে ঘোষণা করেন। যে ৯ জন মারা গিয়েছেন, তাঁদের ২ জন মহিলা এবং ১ শিশুও ছিল। জানা যাচ্ছে, শিশুটিকে কানের চিকিৎসা করার জন্য কলকাতায় আনা হয়েছিল। তবে হাসপাতাল সূত্রে জানা যাচ্ছে, মৃতদের শরীরে প্রাণঘাতী পোড়ার দাগ নেই। অর্থাৎ তাঁদের পুড়ে মৃত্যু হয়েছে, এই কথা প্রাথমিকভাবে বলা যাচ্ছে না। দেহগুলিকে ইতিমধ্যেই ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে এলে, তবেই সঠিকভাবে মৃত্যুর কারণ বোঝা যাবে। তবে প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকেরা মনে করছেন, দমবন্ধ হয়েই ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আগুন লাগার পরেই, ধোঁয়ায় ঢেকে যায় গোটা হোটেল। সেই ধোঁয়া এতটাই গাঢ় ছিল যে, রাস্তা খুঁজে বেরিয়ে আসা সম্ভব হয়নি আবাসিকদের।
পুলিশ সূত্র জানাচ্ছে, যে ঘরগুলি থেকে মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়, সেইগুলির দরজা ভিতর থেকে বন্ধ ছিল। মনে করা হচ্ছে, দরজা বন্ধ করেই নিষ্কৃতি পেতে চেয়েছিলেন ওই হতভাগ্যরা। কিন্তু বিষাক্ত ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের। এই ঘটনা মনে করিয়ে দেয়, আমরি হাসপাতালের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের কথা। ২০১১ সালে আমরি কলকাতার আমরি হাসপাতালে যে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে, সেখানে অধিকাংশেরই মৃত্যু হয়েছিল দমবন্ধ হয়ে। আগুন লেগেছে বুঝেও বেরতে পারেননি অনেকেই। আর কার্যত সেভাবেই মৃত্যু হয়েছে নিউ মার্কেটের আগুন লেগে যাওয়া হোটেলের বাসিন্দাদের, এমনটাই মনে করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের পরেই একেবারে সঠিক রিপোর্ট সামনে আসবে।
