Shravani Mela | শ্রাবণী মেলার আগেই তারকেশ্বরে ‘মহাদেব এক্সপ্রেস’, প্রতি সোমে জলযাত্রীদের জন্য় ‘পুষ্পবৃষ্টি’
হুগলি :
শ্রাবণী মেলা নিয়ে ভাবছে বর্তমান রাজ্য সরকার। পালাবদলের পর তারকেশ্বরে গিয়ে এমনই বার্তা দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সোমবার যেন ছিল সেই প্রতিশ্রুতি পূরণের দিন। জলযাত্রীদের জন্য একাধিক পরিষেবা। তারকেশ্বর ধামকে সাজাতে ১৫ কোটি টাকা ব্য়য় — নানা খতিয়ান তুলে ধরলেন তিনি। আর এদিকে তারকেশ্বরের বিধায়ক সন্তু পান এই মেলাকেই উল্লেখ করলেন ‘জাতীয় উৎসব’ বলে।
তিথি অনুযায়ী, শ্রাবণ মাসের প্রথম দিন অর্থাৎ ১৮ই জুলাই থেকে শুরু হবে শ্রাবণী মেলা। চলবে একেবারে রাখী পূর্ণিমা পর্যন্ত অর্থাৎ ২৮শে অগস্ট। টানা ৪১ দিন। আর এই পর্বে নানা চমক তৈরিতে উদ্যোগী রাজ্য সরকার। জলযাত্রীদের পথে যাতে কোনও অসুবিধা না-হয় তা সুনিশ্চিত করতেই তৈরি হবে পরিষেবা কেন্দ্র। থাকবে জলের ব্যবস্থাও। জানা গিয়েছে, বৈদ্যবাটি থেকে তারকেশ্বর পর্যন্ত — প্রায় ৩৬ কিলোমিটার রাস্তা আলো দিয়ে সাজাবে প্রশাসন। এছাড়াও এদিন মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, শেওড়াফুলি থেকে তারকেশ্বর প্রতি ৫ কিলোমিটার অন্তর থাকবে সেবাকেন্দ্র। থাকবে যথাযথ পুলিশ, সহায়তা কেন্দ্র, অস্থায়ী স্বাস্থ্য শিবির এবং বিশ্রামের জায়গাও। রোদ-জল-বৃষ্টিতে জলযাত্রীদের তৃষ্ণা মেটানোর ব্য়বস্থাও রাখবে রাজ্য।
শুধু পরিষেবা নয়, হবে পুষ্পবৃষ্টিও। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, শ্রাবণের প্রতি সোমবার জলযাত্রীদের উপর সরকারি হেলিকপ্টার থেকে হবে পুষ্পবৃষ্টি।
তবে শ্রাবণের এই উৎসবে তারকেশ্বরকেই যে বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে রাজ্য সরকার তা নয়। এদিন মুখ্যমন্ত্রী জানান, তারকেশ্বর ধামের পাশাপাশি কোচবিহারের জল্পেশ মন্দির ও ভুটান সীমান্তবর্তী জয়ন্তী এলাকার একটি মন্দিরকেও এই উৎসবের ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার চিহ্নিত করেছে।
শ্রাবণী মেলা নিয়ে রাজ্য সরকারের চমক এখানেই শেষ নয়, মেলা শুরুর আগেই চালু হয়েছে ‘মহাদেব এক্সপ্রেস’। তারকেশ্বরবাসীর যাতায়াতের যাবতীয় সমস্যা মেটাতে বড় উদ্যোগ রাজ্য়ের। এবার থেকে প্রতিদিন তারকেশ্বর বাসস্ট্যান্ড থেকে চলবে পাঁচটি সরকারি বাস। যাবে হাওড়া,বর্ধমান,বাঁকুড়া,দিঘা এবং কলকাতা অবধি। আজই ছিল এই ‘মহাদেব এক্সপ্রেসের’ উদ্বোধন। এছাড়াও তারকেশ্বর মন্দির চত্বরে গেরুয়া রং এবং অভিনব লেজার লাইটের ব্যবস্থা করেছে প্রশাসন।
