স্বামী বিবেকানন্দ ডিজিটাল জার্নালিজম কনক্লেভ ও অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬-এর ঘোষণা, নয়াদিল্লিতে এক মঞ্চে দেশের শীর্ষ মিডিয়া, নীতিনির্ধারক ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা
নয়াদিল্লি: রামকৃষ্ণ পরমহংস ফাউন্ডেশন (RPF), জার্নালিস্ট অ্যান্ড মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশন (JMA)-এর সহযোগিতায় এবং জার্নালিস্ট অ্যান্ড মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশন গভর্নিং কাউন্সিল (JMAGC)-এর পৃষ্ঠপোষকতায় “স্বামী বিবেকানন্দ ডিজিটাল জার্নালিজম কনক্লেভ ও অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬” আয়োজনের ঘোষণা করেছে। জাতীয় স্তরের এই সম্মেলনটি নয়াদিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাব অব ইন্ডিয়া-তে অনুষ্ঠিত হবে। এতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বিশিষ্ট সাংবাদিক, সম্পাদক, নীতিনির্ধারক, আইন বিশেষজ্ঞ, প্রযুক্তিবিদ, শিক্ষাবিদ, ডিজিটাল মিডিয়া উদ্যোক্তা, কর্পোরেট প্রতিনিধি এবং সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করবেন।
এবারের কনক্লেভের মূল প্রতিপাদ্য “আইন, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও স্ব-নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে দায়িত্বশীল, নৈতিক এবং ভবিষ্যৎ-প্রস্তুত ডিজিটাল মিডিয়া ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা।” দ্রুত পরিবর্তনশীল ডিজিটাল মিডিয়ার প্রেক্ষাপটে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), সাইবার আইন, ভুয়ো খবর, ফ্যাক্ট-চেকিং, ডেটা গোপনীয়তা এবং ডিজিটাল সাংবাদিকতার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিকে কেন্দ্র করে গভীর আলোচনা ও মতবিনিময়ই এই অনুষ্ঠানের প্রধান লক্ষ্য।
আয়োজকদের মতে, এই কনক্লেভ দেশের দায়িত্বশীল, স্বচ্ছ এবং বিশ্বাসযোগ্য ডিজিটাল সাংবাদিকতাকে আরও শক্তিশালী করতে মিডিয়া, সরকার, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষাজগতের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় মঞ্চ হিসেবে কাজ করবে।
অনুষ্ঠানের গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন আরটিআই কর্মী, সমাজ সংস্কারক এবং গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডধারী শ্রী সুভাষ চন্দ্র আগরওয়াল। তথ্যের অধিকার (RTI) আন্দোলনকে শক্তিশালী করা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় তাঁর অসামান্য অবদান দেশজুড়ে সমাদৃত।
কনক্লেভে জাতীয় নেতৃত্ব সম্মেলন, বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মূল বক্তব্য, উচ্চপর্যায়ের প্যানেল আলোচনা, ডিজিটাল মিডিয়া গভর্ন্যান্স বিষয়ক নীতি সংলাপ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও উদীয়মান প্রযুক্তি নিয়ে বিশেষ অধিবেশন, দক্ষতা উন্নয়ন কর্মশালা, স্টার্টআপ শোকেস, এডিটরস রাউন্ডটেবিল, মিডিয়া উদ্যোক্তাদের ফোরাম এবং নেটওয়ার্কিং সেশনের আয়োজন করা হবে। পাশাপাশি স্বামী বিবেকানন্দ ডিজিটাল জার্নালিজম অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬-এর মাধ্যমে ডিজিটাল সাংবাদিকতায় অসামান্য অবদান রাখা সাংবাদিক, প্রতিষ্ঠান এবং উদ্ভাবনকে সম্মানিত করা হবে।
আয়োজক কমিটির বক্তব্য, ডিজিটাল মিডিয়ার ভবিষ্যৎ শুধু প্রযুক্তিগত অগ্রগতির উপর নির্ভর করে না; বরং নৈতিকতা, বিশ্বাসযোগ্যতা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং জনআস্থার উপরও সমানভাবে নির্ভরশীল। সেই লক্ষ্যেই এই কনক্লেভ সরকার, সংবাদমাধ্যম, ডিজিটাল নিউজ প্ল্যাটফর্ম, প্রযুক্তি সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয়, আইন বিশেষজ্ঞ, নাগরিক সমাজ, স্টার্টআপ এবং কর্পোরেট বিশ্বের প্রতিনিধিদের একত্রিত করে দেশের ডিজিটাল তথ্যব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কার্যকর আলোচনা করবে।
এই কনক্লেভে সাংবাদিক, সম্পাদক, ডিজিটাল নিউজ প্রকাশক, ইউটিউবার, পডকাস্টার, ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থা, মিডিয়া উদ্যোক্তা, আইনজীবী, জননীতি বিশেষজ্ঞ, জনসংযোগ ও কর্পোরেট যোগাযোগ পেশাজীবী, গবেষক, প্রযুক্তি সংস্থা, স্টার্টআপ, সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করতে পারবেন।
আয়োজক কমিটির মতে, ভারতে ডিজিটাল মিডিয়ার দ্রুত প্রসারের এই সময়ে সত্য, নৈতিকতা, স্বচ্ছতা এবং জনবিশ্বাস বজায় রাখা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এই কনক্লেভ বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞদের জন্য একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করবে, যেখানে দায়িত্বশীল এবং ভবিষ্যৎমুখী ডিজিটাল সাংবাদিকতার রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হবে।
আয়োজকরা জানিয়েছেন, স্বামী বিবেকানন্দ ডিজিটাল জার্নালিজম অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬-এর মাধ্যমে কেবলমাত্র সেরা কাজগুলিকে সম্মানিত করা নয়, বরং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা, কৌশলগত অংশীদারিত্ব, উদীয়মান প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহার, মিডিয়া সাক্ষরতা, ডিজিটাল গভর্ন্যান্স, সাংবাদিকদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং উদ্ভাবননির্ভর সাংবাদিকতাকেও উৎসাহিত করা হবে।
এই অনুষ্ঠানের জন্য অংশগ্রহণ, অংশীদারিত্ব ও পৃষ্ঠপোষকতার (Participation, Partnership & Sponsorship) সুযোগ ইতোমধ্যেই উন্মুক্ত করা হয়েছে। সংবাদমাধ্যম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি দপ্তর, পাবলিক সেক্টর সংস্থা, প্রযুক্তি কোম্পানি, স্টার্টআপ, বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্প সংগঠন, থিঙ্ক ট্যাঙ্ক এবং কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলিকে স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার, নলেজ পার্টনার, ইনস্টিটিউশনাল কলাবোরেটর, স্পনসর, মিডিয়া পার্টনার, প্রদর্শক এবং প্রতিনিধি হিসেবে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আয়োজকদের বিশ্বাস, স্বামী বিবেকানন্দ ডিজিটাল জার্নালিজম কনক্লেভ ও অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬ ভারতের ডিজিটাল সাংবাদিকতা, মিডিয়া উদ্ভাবন এবং দায়িত্বশীল মিডিয়া শাসনব্যবস্থাকে নতুন দিশা দেখানোর ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় উদ্যোগ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।
