Trinamool Election Symbol: ঘাসফুল প্রতীক কার হাতে থাকবে? বল নির্বাচন কমিশনের কোর্টে, সোমবার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে ‘দুই’ তৃণমূল
বিজেন্দ্র সিংহ, কৃষ্ণেন্দু অধিকারী: কাদের হাতে থাকবে তৃণমূলের রাশ? জোড়া ফুলের প্রতীক? আগামীকাল দিল্লিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরতে যাচ্ছে ‘কালীঘাট-তৃণমূল’ ও ‘ঋতব্রত-তৃণমূল’। সোমবার বিকেল ৫টায় শেষ হচ্ছে কমিশনের দেওয়া সময়সীমা। তার আগে এ নিয়ে দু’পক্ষের চাপানউতোর চরমে উঠেছে। (TMC Election Symbol)
একদিন আগেই ফেসবুক লাইভে মুখ খুলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচন কমিশন প্রতীকচিহ্ন দিয়ে দিলেও, কী যায় আসে বলে মন্তব্য করেছিলেন তিনি। সেই নিয়ে পাল্টা কটাক্ষ ছুড়ে দেন রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। এখন কেন প্রতীক নিয়ে কথা বলতে হচ্ছে মমতাকে, প্রশ্ন তোলেন তিনি। এমনকি জনে জনে শিবিরবদল নিয়ে ঋতব্রতকে বলতে শোনা যায়, “এই যে বার বার মুখ পুড়ছে, এটা ভাল নয়।” সেই আবহে সোমবার কার্যত অগ্নিপরীক্ষা ‘কালীঘাট তৃণমূলে’র। (Trinamool Election Symbol)
বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পরই ভেঙে খান খান হয়ে গিয়েছে তৃণমূল। একদিকে, বিধানসভায় পাল্লা ভারী ‘ঋতব্রত-তৃণমূলে’র। অন্যদিকে লোকসভাতেও চুরমার তৃণমূল। দলের রাশ কার্যত মমতার হাতছাড়া হয়ে গিয়েছে। একে একে তাঁর পাশ থেকে সরে যাচ্ছেন একদা ছায়াসঙ্গীরা, যাতে নবতম সংযোজন বিগত তৃণমূল সরকারের মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ও দীর্ঘদিনের সঙ্গী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য।
আরও পড়ুন: বাবার শেষকৃত্যে অঝোরে কান্না, ভেঙে পড়লেন খমেনেইয়ের তিন ছেলে, এবারও জনসমক্ষে এলেন না মোজতবা
ফলে সব থেকে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়াচ্ছে, এবার কি তৃণমূল দলটাই হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে মমতার? ‘ঘাসফুল’ প্রতীকও তাঁর হাত থেকে চলে যেতে পারে? সেই নিয়ে বিচার-বিশ্লেষণের মধ্যে গতকাল মমতা বলেন, “নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ করিয়ে, আপনি সিম্বল কেড়ে নিতে পারেন। যদিও আমরা জানি, সিম্বল আপনার পক্ষে যাবে না। কিন্তু ধরে নিলাম, যদি ভ্য়ানিশ কুমারবাবু আমাদের পার্টিকে ফিনিশ করার জন্য় ইলেকশনটাও করেছেন। যদি সিম্বল দিয়েও দেয়, তাতে কী যায় আসে? দরকার হলে আমি গলায় সিম্বল ঝুলিয়ে মানুষের কাছে যখন বেরোবো, আপনারা কি আমার কণ্ঠরোধ করতে পারবেন?”
মুখ্য় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ‘ভ্যানিশ কুমার’ বলে কটাক্ষ করায় মমতার বিরুদ্ধেই সরব হন তৃণমূল বিধায়ক, ‘ঋতব্রত-তৃণমূলে’র সন্দীপন সাহা। তাঁর বক্তব্য ছিল, “জ্ঞানেশ কুমারজী, তাঁর ব্য়াপারে এরকম কুরুচিকর শব্দ প্রয়োগ করা, তাঁর নাম বিকৃত করে বলা আমার মনে হয়, এটা সংবিধানের পজিশনে থাকা একজন ব্যক্তির অপমান।”
এই প্রেক্ষাপটেই সোমবার দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের মুখোমুখি হতে চলেছে, তৃণমূলের যুযুধান দুই গোষ্ঠী ‘কালীঘাট-তৃণমূল’ এবং ‘ঋতব্রত-তৃণমূল’। এর আগে, দুই শিবিরকেই তাদের রিপোর্ট জমা দিতে বলেছিল কমিশন। সেই সময়সীমা শেষ হচ্ছে সোমবার বিকেল ৫ টায়। তার আগে রবিবারই দিল্লি রওনা হন কালীঘাট-তৃণমূল-এর দুই প্রতিনিধি সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। ‘কালীঘাট-তৃণমূলে’র তরফে সাংসদ সৌগত রায় বলেন, “নির্বাচন কমিশন যদি নিরপেক্ষ হয় তাহলে প্রতীক আমরাই পাব। মমতা মানেই তৃণমূল। অজিত পাঁজা এবং মমতা গিয়ে প্রতীক নিয়ে এসেছিল। তখন কেউ ছিল না। যারা ছিল না, তারা কী করে প্রতীক চাইবে?”
আরও পড়ুন: ‘মেড ইন পাকিস্তান’ ফেয়ারনেস ক্রিম মেখে অসুস্থ, কিডনির সমস্যা একাধিক মহিলার, ভারতে ঢুকল কী করে?
ইতিমধ্যে ২ জুলাই, দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বাধীন জাতীয় নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে দেখা করে সংখ্যাগরিষ্ঠতার দাবি জানিয়ে এসেছেন ঋতব্রতরা।
তাঁদের শিবিরের দাবি, সোমবার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাদের বক্তব্য কোনও ব্যক্তি বা ইমেল করে নির্বাচন কমিশনকে জানিয়ে দেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, “কালীঘাট কেন, কালিফোর্নিয়া বলতে পারে, তারা আসল তৃণমূল। সেটা কালীঘাটও ঠিক করবে না। কালিফোর্নিয়াও ঠিক করবে না। নির্বাচন কমিশন ঠিক করবে। একটা ম্য়ান্ডেটরি প্রসেস, এটাই নিয়ম, আপনাকে কোনও একটা সেশন হলে, কনফারেন্স হলে, নির্বাচন কমিশনকে জানাতে হবে। এখন আপনি সেটা সোশাল মিডিয়ায় জানালে হয় না।”
তৃণমূলের দুই শিবিরের মধ্যে এই টানাপোড়েনকে যদিও কটাক্ষ করেছেন রাজ্য বিজেপি-র সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর কথায়, “লড়াইটা প্রতীক নিয়ে নয়, লড়াইটা অ্যাকাউন্টে থাকা কোটি কোটি টাকা নিয়ে।” তবে এই মুহূর্তে বড় প্রশ্ন, ‘আসল তৃণমূল’ কারা? ‘কালীঘাট-তৃণমূল’ না ‘ঋতব্রত-তৃণমূল’? বল এখন নির্বাচন কমিশনের কোর্টে।
Cooch Behar News: রাজ্যের পালাবদলের পর ফের কাটমানি ফেরত দিলেন তৃণমূল নেতারা |ABP Ananda Live
