কলকাতা: কীভাবে লাগল আগুন? কীভাবে চলে গেল এতগুলো তরতাজা প্রাণ? শহরের বুকে ভোররাতে নিউ মার্কেটের মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেল শিখা ইন-এ আগুন। ভিতরে আটকে ১ শিশু-সহ ৯ জনের মৃত্যু, আহত হয়েছিলেন ৬ জন। যাঁদের বিভিন্ন হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হচ্ছে ইতিমধ্য়েই। হোটেলের পিছনে ফ্রি স্কুল স্ট্রিটে দমকলের সদর দফতরের কাছেই আগুন লাগে। পুলিশ ও দমকলের প্রাথমিক অনুমান যে ইলেকট্রিক সুইচ বোর্ড থেকেই আগুন লেগেছে। আরও যে যে ইস্যু উঠে আসছে।
রবিবার তারাপীঠে হোটেলে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছিল। আর মঙ্গলবার মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেলে আগুন লাগে। পুলিশ সূত্রে খবর, হোটেলের রিসেপশনে আগুন লেগেছিল। বেরনোর রাস্তা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। ফলস সিলিং অতি দাহ্য বস্তু দিয়ে তৈরি, যার ফলে আগুন দ্রুত ছড়ায়। এর পাশাপাশি ফায়ার অ্য়ালার্ম বাজেনি, ফায়ার এক্সিটও ছিল না। মাঝরাতে দুটো জায়গাতেই আগুন লেগেছিল, যার জন্য ঘুমন্ত অবস্থায় প্রাণ হারাতে হয়েছে আবাসিকদের। হোটেল শিখা-ইনের ক্ষেত্রে জানা গিয়েছে এক থেকে পাঁচতলা পুরোটাই ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছিল।
প্রতি বছরই এমন ঘটনা ঘটে। গত বছর বড়বাজারে ঋতুরাজ হোটেলে বিধ্বংসী আগুনে শেষ হয়ে গিয়েছিল ১৪টা তাজা প্রাণ! প্রাণ বাঁচাতে কেউ নেমে আসেন কার্নিসে। কেউ বা আগুন থেকে বাঁচতে আশ্রয় নিয়েছিলেন হোটেলের ছাদে। বেশিরভাগের দেহ মিলেছিল বাথরুমে ও হোটেলের ঘরে। প্রত্যেকবার এমন ঘটনা ঘটে, কমিটি তৈরি হয়, এরপর একগুচ্ছ নির্দেশ আসে। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যে এতগুলো প্রাণ হারানেরা দায় কে নেবে?
মির্জা গালিব স্ট্রিটের যে ঘটনা তাতে দেখা যাচ্ছে যে দমকলের সদর দফতরের পাশে হোটেলের প্রতিটা ফ্লোরে ঘর রয়েছে। এতটাই সরু রাস্তা যে আবাসিকরা নেমে পর্য়ন্ত আসতে পারেননি। যার ফলে দমবন্ধ হয়ে মৃত্যু হয়েছিল আবাসিকদের।
শহরের বুকে পুরনো বিল্ডিংয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা প্রথম নয়। ২০১০ সালে ার্ক স্ট্রিটের ১৮-র A স্টিফেন কোর্টে আগুন লাগে। ভয়াবহ সেই আগুনে ৪৯ জনের মৃত্যু হয়। আগুন থেকে বাঁচতে ওপর থেকে লাফ দেওয়ার মতো ভয়ঙ্কর ছবি সামনে এসেছিল। ওই বিল্ডিংয়ে প্রচুর অফিস রয়েছে। অফিস টাইমে আগুন লাগায় অনেকেই প্রাণ বাঁচাতে সিঁড়ি দিয়ে ছাদে ওঠার চেষ্টা করেছিলেন। ছাদের দরজা বন্ধ থাকায় অনেকেই ঝলসে মারা যান।
