Voice of Eastern India

CAB Representative Arrest: সিএবি-র জেলা কোচিং কমিটির চেয়ারম্যান গ্রেফতার, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়েছিলেন বার্ষিক সভায়!


সন্দীপ সরকার, কলকাতা: রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর প্রাক্তন শাসক দলের একের পর এক নেতা-মন্ত্রীর কুকীর্তি প্রকাশ্যে আসছে। কড়া পদক্ষেপ করছে পুলিশ, প্রশাসন।

শনিবার রাতে গ্রেফতার হলেন আরও এক প্রাক্তন তৃণমূল (TMC) বিধায়ক। খড়গপুর থেকে জালে মেদিনীপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুজয় হাজরা। শালবনি থানায় সুজয় হাজরার বিরুদ্ধে জমি জালিয়াতির অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। জমি জালিয়াতির অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হল সুজয় হাজরাকে। গত বিধানসভা ভোটে মেদিনীপুর কেন্দ্রে বিজেপির শঙ্কর কুমার গুছাইতের কাছে ৩৮,৭৪৭ ভোটে হেরে যান তিনি।

তবে সুজয় হাজরা গ্রেফতার হতেই বঙ্গ ক্রিকেটের নিয়ামক সংস্থা সিএবি-তে তোলপাড় শুরু হয়েছে। কারণ, সুজয় হাজরা শুধু তৃণমূলের বিদায়ী বিধায়ক কিংবা পশ্চিম মেদিনীপুরের প্রাক্তন জেলা সভাপতিই নন, তিনি সিএবির জেলা কোচিং কমিটির চেয়ারম্যান। যে কমিটিতে ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন বিধায়ক অসিত মজুমদারও। অসিতকে ইতিমধ্যেই পুলিশ গ্রেফতার করেছে। এবার সুজয়কেও গ্রেফতার করা হল। সিএবি-র একটি কমিটি থেকে দুজন গ্রেফতার হচ্ছে, এমন লজ্জাজনক নজির সংস্থার ইতিহাসে নেই। সিএবি-র গত বার্ষিক সাধারণ সভার পরে অ্যাপেক্স কাউন্সিলের যে বৈঠকে সাব কমিটি তৈরি হয়েছিল, সেখানে জেলা কোচিং কমিটির চেয়ারম্যান করা হয়েছিল সুজয়কে। অসিত ছিলেন কমিটি মেম্বার। তবে সিএবি-র ওয়েবসাইটে এখন যে তালিকা রয়েছে, সেখানে অসিতের নাম নেই দেখে অনেকে হতবাক।

সিএবি-র একাংশ ক্ষোভে ফুঁসছে সুজয় যেভাবে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে গতবারের এজিএমে এসেছিলেন, তা নিয়ে। নিয়ম হচ্ছে, প্রত্যেকটি জেলা সংস্থা থেকে প্রতিনিধি হিসাবে কে সিএবি-র বার্ষিক সাধারণ সভায় আসবেন, তা নির্ধারিত হয় সেই জেলা সংস্থার অভ্যন্তরীণ বৈঠকে। সিএবি-র পাঠানো ফর্মে প্রতিনিধির নাম লিখে তাতে জেলা সংস্থার সচিব ও প্রেসিডেন্টের সই করিয়ে জমা দিতে হয়। সাধারণ দস্তুর হচ্ছে, জেলা সংস্থার সচিবই সিএবি এজিএমে আসেন। তবে গতবার সেটা নিয়েই হয় নাটক।

পুরো ঘটনাটি জানালেন মেদিনীপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার সচিব সঞ্জিত তরৈ। এবিবি লাইভ বাংলাকে মোবাইল ফোনে তিনি অভিযোগ করলেন, ‘গতবার সিএবি-র বার্ষিক সাধারণ সভার আগে আমাদের বৈঠকে ঠিক হয়, আমিই মেদিনীপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থার প্রতিনিধিত্ব করব। সেই মতো ফর্ম ফিল আপ করে নির্ধারিত সময়ে প্রতিনিধি মারফত তা সিএবি-তে পাঠাই। কিন্তু সিএবি-র হেড ক্লার্ক সেটি নিতে অস্বীকার করেন। আমার প্রতিনিধিকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। এরপর আমাদের ফের বৈঠক হয়। সেখানে সুজয় হাজরা জানান, তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চেয়েছেন আমি নই, সিএবি এজিএমে সুজয় যাবেন। আমি পিছিয়ে আসতে বাধ্য হই।’

ময়দানের একাংশের অভিযোগ, সিএবি-র গত বার্ষিক সাধারণ সভায় যে রাজনৈতিক প্রভাব কতটা তফাত গড়ে দিয়েছিল, সুজয় হাজরার ঘটনা তার বড় প্রমাণ। কিন্তু একজন বিধায়ককে জেলা কোচিং কমিটির চেয়ারম্যান করা হল কেন? কেনই বা সেই সময়কার আর এক তৃণমূল বিধায়ককে কমিটিতে রাখা হয়েছিল? সিএবি-র কোষাধ্যক্ষ সঞ্জয় দাস বললেন, ‘জেলা সংস্থা কাকে প্রতিনিধি করে পাঠাবে সেটা তাদের ব্যাপার। আর কমিটিতে প্রতিনিধিদের রাখাই দস্তুর।’ কিন্তু জেলা কোচিং কমিটিতে অক্রিকেটীয় লোক কোন যুক্তিতে? সংস্থার গঠনতন্ত্র কী বলছে? সঞ্জয় বলছেন, ‘শুধুমাত্র ট্যুর অ্যান্ড ফিক্সচার কমিটির ক্ষেত্রে ২৫টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলা তিনজনকে রাখতে হয়। বাকি কোনও কমিটির ক্ষেত্রে এরকম নিয়ম নেই।’

কিন্তু জেলা কোচিং কমিটিতে দুই তৃণমূল বিধায়ককে কেন রাখা হয়েছিল? কোন মাপকাঠিতে? সদুত্তর নেই। সিএবির প্রাক্তন এক পদাধিকারী তথা সদস্য অবশ্য তীব্র কটাক্ষের সুরে বললেন, ‘মাপকাঠি তো একটাই। ধমকে চমকে যে ভোট ম্যানেজ করতে পারবে, সিএবি-র এজিএমে রিগিং করতে পারবে, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তির সুবিধা করে দিতে পারবে, সেই প্রাইজ পোস্টিং পাবে বিভিন্ন কমিটিতে। আর যিনি মেদিনীপুর জেলা ক্রীড়া সংস্থা থেকে আসবেন বলে নিয়মমাফিক কাগজ জমা করতে পাঠিয়েছিলেন, সেটা সিএঅবি-র কর্মী নিতে অস্বীকার করলেন কীভাবে? এই কাজ তো ইলেক্টোরাল অফিসারের। ইলেক্টোরাল অফিসার স্ক্রুটিনি করে যদি কারও ফর্ম বাতিল করতে চান, সেটা তাঁর এক্তিয়ার। এরকম কিছু হয়ে থাকলে তা তো সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করার সামিল।’

জেলা কোচিং কমিটির চেয়ারম্যান গ্রেফতার, সেই জায়গায় কাকে আনা হতে পারে? সিএবি কোষাধ্যক্ষ বলছেন, ‘এজিএম তো আর তিনমাসের মাথায়। তার আগে মনে হয় না আর কাউকে কমিটিতে আনা হবে। যা হবে বার্ষিক সাধারণ সভার পর।’

আরও পড়ুন: মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের সভাপতি হুমায়ুন কবীর, দ্বারস্থ হবেন মুখ্য়মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

Source link



Source link

Leave A Reply

Your email address will not be published.