Voice of Eastern India

Sabyasachi Dutta:“সব্যসাচী দত্তের ওয়ার্ডে টর্চার চেম্বার… মানুষকে উলঙ্গ করে চালাত নির্মম অত্যাচার”, ভয়াবহ অভিযোগ ব্যবসায়ীর


কলকাতা: প্রায় ১ কোটি টাকারও উপরে তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন, প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সব্যসাচী দত্ত। যে ব্যবসায়ীর অভিযোগে সে গ্রেফতার হয়েছেন, সেই অভিযোগকারী ব্যবসায়ী গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন সব্যসাচী দত্তের বিরুদ্ধে। এবার ‘ঘণ্টাখানেক সঙ্গে সুমন’ এবিপি আনন্দ-র বিশেষ অনুষ্ঠানে মুখ খুললেন অভিযোগকারী ব্যবসায়ী মধুসূধন চক্রবর্তী। 

আরও পড়ুন, ত্রাণ দুর্নীতি কাণ্ডে গ্রেফতার রাজ্যের প্রাক্তন কারামন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাস

প্রশ্ন: ২০১৮ সালে এই ঘটনা যেটা আপনি অভিযোগ করেছেন, এটা ২০২৬। তো এর মধ্যে কমপ্লেন করার বা পুলিশে যাওয়ার, পুলিশকে চেনানোর কোনও চেষ্টা করেছিলেন ?

অভিযোগকারী ব্যবসায়ী মধুসূধন চক্রবর্তী : আমি ২০১৮ সালে, আমার এই ঘটনা ঘটার পর, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ ক্যালকাটা প্রেস ক্লাবে, আমি একটা প্রেস মিট করি। সেটা আপনারা আর্কাইভে দেখতে পাবেন। এবং তারপর আমি পুলিশ মহলে অনেক দৌড়াদৌড়ি করেছি। কেউ আমার কথা শোনেনি। আমি অনেক দৌড়েছি। কোনওরকম কিছু পাইনি। সবসময়ই জীবন সংশয় নিয়ে, আমি দিন কাটাচ্ছিলাম। আজকে চৌঠা মে। ২০২৬ এর নির্বাচনের পরে, মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মহাশয়ের কাছে, আমার প্রণাম। জনতার দরবার যে সুযোগটা করে দিয়েছে, থানায় গিয়ে নিজের ঘটনার কথা প্রকাশ করলাম। আমাকে পুলিশ প্রশাসন যথেষ্ট সাহায্য করল। তাঁরা আমার পুরনো সব ঘটনাগুলি শুনল। 

প্রশ্ন: অথচ এই পুলিশই এতবছর ২০১৮ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত কার্যত আপনাকে ঘুরিয়েছিল। অভিযোগও নেয়নি। আপনি অভিযোগে লিখেছেন, ১ কোটি টাকা আদায় করা হয়েছে। ২ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা আপনি দিয়েছেন। ঠিক কীভাবে চাপ আসত ? কী বলা হত আপনাকে ? কেন আপনি এই বিপুল টাকা দিতে বাধ্য হলেন ?

অভিযোগকারী ব্যবসায়ী মধুসূধন চক্রবর্তী : (সব্যসাচী দত্ত) উনি আমাদের বিধাননগরের মেয়র ছিলেন ২০১৮  এবং নিউটাউনের বিধায়ক ছিলেন। সুপ্রিম পাওয়ার বিধাননগরের। আমি ওনাকে সেইভাবে চিনতামও না। আমি একদিন কোনও কারণে, ওনার একটা ফোন পেলাম। সেটা হচ্ছে ২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮। ফাস্ট ফোন সাড়ে দশটার সময়।.. আমি তার কথা শুনলাম। শোনার পরে বিদ্যুৎ গাঙ্গুলি বলে একটা লোককে বলল, ২ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা দেওয়ার জন্য। তার ত্রিপুরায় একটা কোনও নির্বাচনের কাজ আছে। আমি বললাম দাদা, আমি এটা পারব। আমি দিলাম। তারপর ৬ তারিখ ফোন এল সব্যসাচী দত্তের, আপনাকে ১ কোটি টাকা পেমেন্ট দিতে হবে। আপনি আপনার টাকাটার ব্যবস্থা করুন। আমি বললাম সোনা বেচে কোথা থেকে এত টাকা পাব ? আমি সাধারণ ব্যবসায়ী। উনি (সব্যসাচী দত্ত) আমাকে বললেন, কোনও কিছু জানি না। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও কিছু আপনাকে করতে পারবে না। কারও ক্ষমতা নেই। আমি যা বলছি, তাই করুন। না হলে আপনার বাড়ির কাছে দেখুন, আমার লোক দাঁড়িয়ে আছে। আর যেসব ভাষা বলছে, আমি এখানে সেটা বলতে পারছি না। মানে উনি আমাকে গান পয়েন্টে রেখে…। আমি সেই কথোপকথনের অডিও জমা দিয়েছিলাম। ..আশাকরি এখন আমি প্রমাণ করতে পারব, যে সব্যসাচী দত্ত আমার উপরে প্রাণনাশের হুমকি, জুলুম, আমার কাছ থেকে টাকা নিয়েছে। আজকে উনি বললেন না (সব্যসাচী দত্ত) যে উনি ১ টাকাও নিলে ফাঁসিকাঠে ঝুলবেন। যদি আমি মিথ্যে হই, আমি ফাঁসিকাঠে ঝুলব। আপনি (সব্যসাচী দত্ত)  টাকা নিয়েছেন। আপনি চোর। লোকে আজকে আপনাকে(সব্যসাচী দত্ত)  ডিম মারছে । কেন মারছে, আপনি ওদের কষ্ট দিয়েছেন। ..তাঁর ওয়ার্ড অফিসটায় টর্চারিং চেম্বার ছিল। ..চেক করে দেখুন, ওই বাড়িটা কীভাবে দখল করেছে। একটা বাড়ি ঠিক বিধাননগর থানার উল্টো দিকে। সেই বাড়িটি উনি দখল করে রেখেছেন। সব্যসাচী দত্ত আপনি বলুন আপনার তোলার টাকা কোন কোন প্রোমোটারের কাছে যায়। আমি সবকিছু জানি। কিন্তু আমাকে তো প্রাণে মেরে ফেলবে তার লোকজন।…টর্চার চেম্বার আছে ওনার ওয়ার্ডে। উনি সেখানে মানুষকে নিয়ে, তাঁদের উলঙ্গ করে নির্মম অত্যাচার করে।

Source link



Source link

Leave A Reply

Your email address will not be published.