সন্দীপ সরকার, কলকাতা : পঞ্চসায়রে তৃণমূলের পার্টি অফিসে মিলল প্রচুর ত্রাণের জিনিস ও সরকারি নথি! উদ্ধার হল ৩টি ট্রাঙ্ক ভর্তি জমির দলিল, মিউটেশনের কপি, জমি-বাড়ি কেনাবেচার নথি, আধার ও ভোটার কার্ডের কপি, লক্ষ লক্ষ টাকার চেক, বনদুক কেনার নথি। এখানেই শেষ নয়। ওই পার্টি অফিস থেকে গাদা গাদা ত্রিপলের পাশাপাশি উদ্ধার করা হয়েছে একাধিক অক্সিজেন সিলিন্ডারও। এমনকী বিপর্যয় মোকাবিলা দফতরের লোগো লাগানো বিভিন্ন সরকারি জিনিসও বেআইনিভাবে মজুত করা হয়েছে কলকাতা পুরসভার ১০৯ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল অফিসে। সেখান থেকে মিলেছে স্থানীয় বাসিন্দাদের জমির প্রচুর মিউটেশন কপিও। জানা গেছে, ওই পার্টি অফিসটি একসময় সিপিএমের থাকলেও, পরে সেটা দখল করে নেয় তৃণমূল। রাজ্যে পালাবদলের পর সেই পার্টি অফিস পুনরুদ্ধার করে বামেরা। কিন্তু সেখান থেকে সরকারি ত্রাণের বিভিন্ন জিনিস এখন উদ্ধার হওয়ায় কিছুটা হলেও অস্বস্তিতে পড়েছে সিপিএম।
উদ্ধার ত্রাণের ত্রিপল-শাড়ি, পুলিশের জালে আরও এক পুরসভার চেয়ারম্যান, কী কী অভিযোগ উঠছে?
পঞ্চসায়রে তৃণমূলের দখল করা পার্টি অফিসে মিলল সরকারি ত্রাণসামগ্রীর পাহাড়। ট্রাঙ্ক থেকে উদ্ধার করা হল জমি-বাড়ির নথি থেকে মিউটেশন সার্টিফিকেট। কলকাতা পুরসভার ১০৯ ওয়ার্ডের ঘটনা। খবর পেয়ে বিতর্কিত পার্টি অফিসটি সিল করে দিয়েছে পুলিশ। অক্সিজেন সিলিন্ডার, হাসপাতালের বেড থেকে ৬টা ট্রাঙ্কে বোঝাই করা গাদা গাদা নথিপত্র – তার মধ্যে একটি ট্রাঙ্ক খুলতেই যেন চিচিং ফাঁক। কী নেই তার মধ্যে। জমির দলিল, মিউটেশনের কপি, সরকারি নানা শংসাপত্র যেমন আছে তেমনই ট্রাঙ্কের মধ্যে মিলেছে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স থেকে বন্দুক কেনার নথি। এই ছবি কলকাতা পুরসভার ১০৯ নম্বর ওয়ার্ডে পঞ্চসায়রের একটি তৃণমূলের পার্টি অফিসের।
প্রায় সাড়ে ৫ বছর ধরে তৃণমূলের দখলে থাকা ওই অফিসে প্রায় পাহাড়ের মতো মজুত করা রয়েছে সরকারি ত্রাণের জিনিস। রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্ট্যাম্প দেওয়া ত্রিপল, হাঁড়ি-কড়াই থেকে বর্জ্য পদার্থ ফেলার বালতি, গুচ্ছ সরকারি নথি, আধার, ভোটার ও প্যান কার্ডের পাশাপাশি মিলেছে আর্মস লাইসেন্স। প্রশ্ন হল, সাধারণ মানুষের জন্য বরাদ্দ জিনিস কেন এভাবে মজুত করে রাখা হয়েছিল তৃণমূলের অফিসে? এত সরকারি ত্রাণ সামগ্রী এভাবে রেখে দেওয়া হল, তারপরও নজরে এল না প্রশাসনের? এ বিষয়ে কলকাতা পুরসভার ১০৯ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোনে যোগাযোগ করা হলেও, ফোন ধরেননি তিনি। শুক্রবার বিতর্কিত ওই পার্টি অফিসটি সিল করে দেয় সার্ভে পার্ক থানা।
