Voice of Eastern India

Trinamool: ব্যাঙ্কে থাকা কোটি কোটি টাকা এখন কার, তৃণমূলের তহবিল নিয়ে শুনানির পর কী রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট?


নয়া দিল্লি: তৃণমূলের ৩ টে অ্যাকাউন্টে থাকা ৪৪০ কোটি টাকা আগেই ফ্রিজ করে দিয়েছিল ইডি। এবার সেই তহবিল নিয়ে জোড়া মামলার শুনানি হল সুপ্রিম কোর্টে। দলের তহবিলে থাকা কোটি কোটি টাকা কার দখলে যাবে? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘কালীঘাট-তৃণমূল’ -এর নাকি, ‘ঋতব্রত-তৃণমূল’-এর?

আরও পড়ুন: নেতাজি মূর্তিতে মাল্যদান করতে গিয়ে আবারও বিক্ষোভের মুখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ফের শুনতে হল ‘চোর চোর’ স্লোগান

এ নিয়ে জল্পনার মাঝেই, মঙ্গলবার তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ নিয়ে জোড়া মামলার শুনানি ছিল সুপ্রিম কোর্টে। সেখানে, ফ্রিজ করা নেই, এমন তিনটি অ্যাকাউন্টে থাকা ১২০ কোটি টাকা ‘কালীঘাট-তৃণমূল’ ব্যবহার করতে পারবে বলে অনুমতি দিল সর্বোচ্চ আদালত। কিন্তু তাতে ঘোরতর আপত্তি জানাল ঋতব্রত তৃণমূল। শেষে এ নিয়ে ‘ঋতব্রত-তৃণমূল’কে হাইকোর্ট নিযুক্ত স্পেশাল অফিসারের দ্বারস্থ হতে বলেছে সুপ্রিম কোর্ট। অর্থাৎ তহবিল মামলায় এদিন তেমন কোনও স্বস্তিই পেল না কালীঘাট-তৃণমূল শিবির।

তৃণমূল আমলে দলীয় তহবিল থেকে সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগে, ৩টি অ্যাকাউন্টে থাকা ৪৪০ কোটি ৪২ লক্ষ টাকা ফ্রিজ করে দেয় ইডি। যাকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করে ‘কালীঘাট-তৃণমূল’ শিবির। এদিন সেই মামলার শুনানি ছিল সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এম এম সুন্দ্রেশ এবং বিচারপতি প্রসন্ন বি ভরলের বেঞ্চে।

এদিন শুনানির শুরুতেই কালীঘাট-তৃণমূলের আইনজীবী বলেন, তাদের সব অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দেওয়ায় তারা দলের দৈনন্দিন খরচ চালাতে পারছেন না। ১৬৪ কোটি টাকার লেনদেন নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু ইডি তাদের ৪০০ কোটি টাকারও বেশি ফ্রিজ করে রেখেছে। ২১৫ জন কর্মীকে বেতনবাবদ মাসে ৫১ কোটি টাকা দিতে হয়। এছাড়াও ১৭টি পার্টি অফিসের ভাড়াবাবদ মাসে দিতে হয় ১ কোটি টাকা। 

সেইসময় অতিরিক্ত সলিসিটার জেনারেল বলেন, ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্কের ৩টি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়নি। তাতে ১২০ কোটি টাকা রয়েছে। সেই টাকা দৈনন্দিন খরচের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। তখন এর বিরোধিতা করা হয় ঋতব্রত-তৃণমূল শিবিরের তরফে। তাদের আইনজীবী বলেন, কে আসল তৃণমূল তা নিয়ে সিদ্ধান্ত এখনও নির্বাচন কমিশনে বিবেচনাধীন রয়েছে।

‘কালীঘাট-তৃণমূল’-এর সাংসদ সৌগত রায় বলেন, “এটা আমাদের পক্ষে খুশি হওয়ার ব্যাপার। তার কারণ আমরাই তো আসল তৃণমূল। বাকিগুলো তো নকল তৃণমূল। দলছুট, বিশ্বাসঘাতক তৃণমূল। আমাদের যে খরচ করার অনুমতি দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট এতে আমাদের কাজের সুবিধা হবে। তারপরে হাইকোর্টে বিচার হোক। হাইকোর্ট যা বলবে সেটাই। আমরা একটা ধাপ এগিয়ে গেলাম স্বীকৃতিতে।”

এর আগে ইডি-র তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজের ঘটনাকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল কালীঘাট-তৃণমূল। সেই মামলায় কয়েকটি শর্ত বেঁধে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য নির্দেশ দেন, দৈনন্দিন কাজ ও মামলার খরচের জন্য ৩টি অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা যাবে। তবে এই অ্যাকাউন্টগুলি পরিচালনার ভার ‘কালীঘাট তৃণমূল’-এর হাতে থাকবে না। সেগুলি পরিচালনা করবেন আদালতের নিয়োগ করা একজন স্পেশাল অফিসার।

এদিন হাইকোর্টের সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল ঋতব্রত-তৃণমূল শিবির। তাদের আইনজীবী বলেন, নির্বাচনে হারের পর ১৫ দিনের মধ্যে দলের অ্যাকাউন্টে ৩৬০ কোটি টাকা জমা পড়ে। সেই লেনদেন সন্দেহজনক মনে হওয়ায় পুলিশের দ্বারস্থ হন তারা। এরপরেই পুলিশ ৬টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দেয়।

ঋতব্রত-তৃণমূল শিবির দাবি করে, কে আসল তৃণমূল সেই সিদ্ধান্ত বর্তমানে নির্বাচন কমিশনে বিবেচনাধীন। এই অবস্থায় হাইকোর্ট ‘কালীঘাট-তৃণমূল’কে ফ্রিজ না হওয়া অ্যাকাউন্টের টাকা ব্যবহারের নির্দেশ দিয়ে অগ্রাধিকার দিয়েছে। যদিও এই বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করতে চায়নি সুপ্রিম কোর্ট। 

এ নিয়ে ৯ জুলাই হাইকোর্টের দেওয়া নির্দেশ অনুযায়ী, নিযুক্ত স্পেশাল অফিসারের দ্বারস্থ হয়ে সেখানে ‘কালীঘাট-তৃণমূল’কে তহবিলের টাকা ব্যবহারে তাদের আপত্তির কথা ‘ঋতব্রত-তৃণমূল’কে জানানোর জন্য নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। ‘ঋতব্রত-তৃণমূল’ বিধায়ক প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বিজেপি আবার সব টাকা বাজেয়াপ্ত করে মানুষকে ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলছে।”

রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন,”তৃণমূল মানেই টাকা আর টাকা মানেই তৃণমূল। দুর্নীতি আর তৃণমূল সমার্থক শব্দ। সেজন্য মৃতই হোক বা ঋতই হোক, লড়াই আসলে ওই এক ডজনের বেশি অ্যাকাউন্টে যে কয়েক হাজার কোটি টাকা পড়ে আছে তার দখলদারি নিয়ে। ভাবতে পারেন, একটা দল হেরে গেছে, তারপরেই শুনছি সেই তহবিলে ৩৬০ কোটি টাকা এসেছে। আসলে এই টাকাগুলো পাচারের টাকা। মানুষের সম্পদ লুঠ করার টাকা। সামাজিক প্রকল্পের টাকা। আমরা চাই এই সমস্ত টাকা বাজেয়াপ্ত করা হোক এবং মানুষের টাকা মানুষকে ফিরিয়ে দেওয়া হোক।”

Source link



Source link

Leave A Reply

Your email address will not be published.